
মোঃ জসিম উদ্দিন খান,কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে এসএসসি পরিক্ষা চলাকালীন সময়ে বাড়িতে বিয়ের সমন্ধ আনায় এবং পাত্রপক্ষ দেখতে আসায়, পরিক্ষা রেখে এক এসএসসি পরিক্ষার্থী প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পালিয়ে যাওয়া পরিক্ষার্থী কুলিয়ারচর আগরপুর জিসি উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক শাখার ছাত্রী ও পার্শ্ববর্তী বাজিতপুর উপজেলার সরারচর ইউনিয়নের মাছিমপুর (আতকা পাড়া) গ্রামের মেয়ে।
গতকাল সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মুসা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব ইংরেজি প্রথম পত্র পরিক্ষায় এক পরিক্ষার্থী অনুপস্থিতি রয়েছে বিষয়টি জানানোর পর অনুসন্ধানে এই তথ্য জানা গেছে। আগরপুর জিসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (হল সুপার) মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, ওই পরিক্ষার্থী বাংলা ও বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরিক্ষা সুন্দর ভাবে কেন্দ্র উপস্থিত থেকে দিয়েছে কিন্তু তৃতীয় পরিক্ষা ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে কেনো আসেনি সেটা তিনি জানেন না এবং পরিক্ষার্থীর ঠিকানা দেন।
নিখোঁজ পরিক্ষার্থীর মা বলেন, আমার মেয়ে অন্য দিনের মত আজ সকালেও পরিক্ষা দিতে স্বাভাবিক ভাবে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু পরিক্ষার সময় শেষ হয়ে আসলেও মেয়ে বাড়িতে ফিরেনি। খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারলাম সে পরিক্ষার হলেই যায়নি। কারও সাথে রিলেশন ছিলো কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তেমন কিছু তিনি জানেন না। তবে কাল একটি বিয়ের সমন্ধ এসেছিলো এবং পাত্রপক্ষ তাকে দেখে এসেছিলো।
সহপাঠী এসএসসি পরিক্ষার্থী বলেন, সে প্রতিদিনের মত আমাদের সাথে আজকেও একই গাড়িতে করে পরিক্ষা কেন্দ্র যায়। পরে আমি আমার কক্ষে চলে যাই, আর সে কোনদিনে যায় লক্ষ্য করিনি। তবে সে অন্য দিন ড্রেস পরে কেন্দ্রে আসতো, আজই বোরকা পরে গিয়েছিল। পরিক্ষা থাকার তেমন সন্দেহ করিনি।
তবে প্রতিবেশী বান্ধবী জানান, সকালে আমি স্কুলে যাওয়ার সময় সে আমাকে একটি বোরকা দিয়ে বলে এটা নির্দিষ্ট একটি বাড়িতে রাখার জন্য। সে পরিক্ষা দিতে যাওয়ার সময় নিয়ে যাবে। পরি আমি নির্দিষ্ট বাড়িতে বোরকাটি রেখে স্কুলে চলে যাই।
বোরকা রেখে যাওয়া বাড়ির লোক জানান, একটি মেয়ে আমাদের বাড়িতে বোরকাটি রেখে যাওয়ার পর, পরিক্ষায় যাওয়ার সময় যার বোরকা সে এসে নিয়ে যায়। এর বেশি কিছু আমার জানা নেই।
নিখোঁজ পরিক্ষার্থীর চাচা গিয়াস উদ্দিন জানান, অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারলাম, আমাদের মেয়ে নিখোঁজের সময় থেকে এলাকার একটি ছেলেও নিখোঁজ রয়েছে। ধারণা করছি এই ছেলেই আমাদের মেয়েকে নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগে প্রক্রিয়া চলছে।













