গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী ও শ্বশুর আটক

0
81

এমডি জিলহজ খান কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্বামীর বাড়ি থেকে ইতি খাতুন (৩০) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আজ রোববার সকালে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহবধূর স্বামী আশরাফ হোসেন ও শ্বশুর শুকুর আলীকে আটক করা হয়েছে।

মৃত গৃহবধূ উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের বড় ভালুকা গ্রামের ভ্যানচালক সামছুল মণ্ডলের মেয়ে এবং নগরকয়া গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে আশরাফ হোসেনের স্ত্রী।

গৃহবধূর স্বজনেরা জানান, কয়েক বছর আগে আশরাফ হোসেনের সঙ্গে ইতি খাতুনের বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের জেরে আশরাফ প্রায়ই ইতিকে মারধর করতেন। মারধরের শিকার হয়ে মাঝেমধ্যে বাবার বাড়ি চলে যেতেন। গত ১৫ দিন ধরে ইতির সঙ্গে তাঁর বাবার বাড়ির কারও কোনো যোগাযোগ ছিল না।

গৃহবধূর বাবা সামছুল মণ্ডল বলেন, ‘আমার মেয়েকে তাঁর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে পিটিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করেছে। মেয়ের বাঁ হাত ভাঙা ও মাথা ফুলে গেছে। গলায় কালো দাগ রয়েছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। এ বিষয়ে থানায় মামলা করব।’

অভিযোগ অস্বীকার করে গৃহবধূর শাশুড়ি আনোয়ারা খাতুন বলেন, ‘ব্যাটার (ছেলের) বউয়ের মিরকি (মৃগ) ব্যারাম (রোগ) ছিল। কাইল (শনিবার) রাইতে মিরকি ব্যারাম রোগেই মইরা গেছে।’

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসিন হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে শ্বশুরবাড়ির নিজ ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের একটি হাত ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন এবং গলায় শ্বাসরোধের দাগ রয়েছে। গতকাল কোনো এক সময় তাঁকে পিটিয়ে এ শ্বাসরোধে হত্যা করা হতে পারে।

ওসি আর ও বলেন, আজ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। এরই মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গৃহবধূর স্বামী ও শ্বশুরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

তবে এখনো এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।


গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী ও শ্বশুর আটক

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here