ভোলার চরফ্যাশনে উদ্বোধন করলেন রিমোট কন্ট্রোল জাহাজ।

0
238

মিলি সিকদার,ভোলা জেলা প্রতিনিধি:

স্পেশাল অপারেশন মনিটরিং বোর্ট’ বা জাহাজ তৈরী করেছেন ভোলার চরফ্যাশনের নুরে বেলায়েত আকাশ নামের এক যুবক। মাত্র ২৮ দিনের প্রচেস্টায় তিনি এ জাহাজটি তৈরী করেন। দুর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার মধ্যেও বাতাস এবং ঢেউ প্রতিরোধ করে ঘন্টায় ২ শতাধিক কিলোমিটার বেগে চলতে পারবে জাহাজটি। এটি ওয়াটার ফ্রুপ থাকায় ডুবে যাওয়ার কোন সম্ভাবন নেই। আর হেলে পড়লেও তা মুহুর্তের মধ্যে নিজে নিজেই পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসবে।

সর্বোচ্চ গতি সম্পন্ন এ জাহাজটিকে নৌ বাহিনীর সদস্যদের জন্য নির্মান করেছেন বলে জানান আকাশ। এটির বাস্তব রুপ দেয়া গেলে প্রযুক্তিতে আরও কয়েক দাফ ওগিয়ে যাবে বলেও মনে করেন তিনি। তার আবিস্কৃত এ জাহাজ দেখতে ভীড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা।

সরকারের সহযোগীতা পেলে ভবিষ্যতে আরও প্রযুক্তিনির্ভর জাহাজ নির্নানের ইচ্ছে রয়েছে তার। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের হাসানগঞ্জ
গ্রামের প্রবাসী আবু তাহের সিরাজের ছেলে নুরে বেলায়েত আকাশ। তিনি তার নিজ ঘরের একটি কক্ষ্যে মাত্র ২৮ দিনে এ জাহাজটি নির্মান করেন।

জাহাজ নির্মানে বাস্তব ধারনা না থাকলেও ইউটিউব এবং গুগল দেখে নিজের মেধা খাটিয়ে জাহাজটি নির্মান করেন আকাশ বলেন, স্যানসোর, লাইভ ক্যামেরা ও স্যাটেলাইটসহ নানা প্রযুক্তি নির্ভর রিমোট কন্ট্রোল সিস্টেমের এই জাহাজটি দেখলেই অনুমান করা যায় এ জাহাজের দুর্বার গতিতে চলার ক্ষমতা সম্পর্কে। যা যে কোন দুর্যোগের মধ্যেও স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারবে বাধা অতিক্রম করেই। জাহাজটি ১০ কিলোমিটার অদুরের শত্রুপক্ষ বা বাধা-বিপত্তি গতিবিধি নজরদারি করতে পারবে এবং সংকেত দিবে। এছাড়াও রয়েছে ড্রোন ফ্লাই করার ব্যবস্থাও। যারমধ্যে দূরের অবস্থান নির্নয় করা যাবে।

আকাশ আরও বলেন, দেশের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে নৌবাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা, টহল অভিযান ও যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এ ধরনের জাহাজ সহায়তা করবে বলে মনে করবে বলে আমি মনে করি। আমার উদ্ভাবিত পৃথিবীতে এমন জাহাজ দ্বীতিয়টা নেই। এটিই প্রথম প্রযুক্তি নির্ভর। এটি নাবিকবিহীন রিমের্ট কন্ট্রোল এবং নাবিক নিয়েও পরিচালনা করা যাবে।

আকাশ মনে করছেন সরকারি সহায়তা পেলে এ জাহাজের বাস্তব রুপ দিতে পারবেন যা পৃথিবিতে হয়ে উঠবে বিরল। এদিকে আকাশের তৈরী এ জাহাজ দেখতে ভীড় জমাচ্ছেন মানুষ। তার এ আবিস্কারের প্রশংশা করেন তারা।

স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা মনজুর, মো. সুমন ও শেখ সাদি বলেন, আকাশের জাহাজ নির্মানেন খবর পেয়ে আমরা তা দেখতে এসেছি , আমাদের অনেক ভালো লেগেছে। আমাদের এ ক্ষুদে বিজ্ঞানীর প্রতিভার মূল্যায়ন করা দাবী জানাই। আকাশের উদ্ভাবিত জাহাজটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে সব ধরনের সহয়তীতার আশ্বাস দিয়েছেন চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল নোমান। তিনি বলেন, তিনি যে জাহাজটি নির্মান করেছেন এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। যদি মনে হয় এটি উপযুক্ত, তাহলে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাকে সহযোগীতা করা হবে।

জাহাজ উদ্ভাবক আকাশ বিজ্ঞান শাখায় উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ২০২০ সালে বরিশাল মেরিন একাডেমীতে ভর্তি হয়ে ইঞ্জিন প্রশিক্ষণ কোর্স করলেও জাহাজ প্রকৌশল সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই। তবুও জাহাজ নির্মান প্রকৌশল এবং ইঞ্জিন সম্পর্কে প্রয়োনীয় জ্ঞান রয়েছে তার। তার জাহাজের এ ডেমোটি বাস্তব রুপ দেয়া সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি।


ভোলার চরফ্যাশনে উদ্বোধন করলেন রিমোট কন্ট্রোল জাহাজ।

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here