প্রতারণা করে অর্ধশত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গাঢাকা দিয়ে রয়েছে সেই জাহাঙ্গীর আলম

0
395

খন্দকার ছদরুজ্জামান,নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

আগের কালের লোকজন বাংলা একটা প্রভাত বলতো কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে এলো সাপ ঠিক যেন সেই প্রবাদের সাথে মিল রয়েছে খান জাহাঙ্গীর আলমের। ঢাকা মিরপুরে প্রিমিয়ার ফিন্যান্স এন্ড কমার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ ছিল সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধন। তবে সমবায় কার্যালয়ের কোনো তদারকি ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। আর তদারকির অভাবেই প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা অধিক মুনাফার প্রলোভনে ফেলে গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে অর্ধশত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গাঢাকা দিয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়ার যায়।

ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায় যে,প্রিমিয়ার ফিন্যান্স এন্ড কমার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ চেয়ারম্যান নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মঙ্গলপুর গ্রামের খান জালালউদ্দিনের ছেলে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খান জাহাঙ্গীর আলম এই অর্ধশত কোটি টাকা নিয়ে গাঢাকা দিয়ে রয়েছেন।গ্রাহকদের একাধিক মামলাও রয়েছে তার নামে।

সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে খান জাহাঙ্গীর আলম এর নামে বেরিয়ে আসে আরো নানা অপকর্মের তথ্য। তার ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়নবাসী বলেন,শিবির নেতা থেকে হয়েছে আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের নেতা।ছাত্রজীবনে খান জাহাঙ্গীর আলম খুলনা ডে নাইট কলেজের শিবিরের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন।কিভাবে শিবির থেকে আওয়ামী লীগ নেতা হলেন প্রশ্ন লোহাগড়া বাসির।

এ ছাড়া তারা আরও বলেন,সাবেক চেয়ারম্যান খান জাহাঙ্গীর আলম অবৈধ টাকার মাধ্যমে গ্রামে হয়ে উঠেছে মোগল যুগের রাজা।গ্রামের মাদকাসক্ত ছেলেদের নিয়ে বানিয়েছে লাঠিয়াল বাহিনী। ইউনিয়নের যত ধরনের অপকর্ম হয় খান জাহাঙ্গীর আলমের ইন্দ্রনেই হয়ে থাকে।তার কাছে সব সময় অবৈধ অস্ত্র থাকে। গ্রামবাসী কেউ যদি এটার প্রতিবাদ করে তাকে হতে হয় গুম খুন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামবাসীরা বলেন,কোটাকোল ইউনিয়নে প্রতিবছরই মানুষ খুন গুম হয়ে থাকে এটা খান জাহাঙ্গির আলমের লোকজনরাই বেশি করে থাকে।খান জাহাঙ্গীর আলমের নামে মার্ডার মামলা সহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি যুবক ছেলেদের দিয়ে অবৈধ ব্যবসা করানোসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করে থাকে। কোটাকোল ইউনিয়নের বড়দিয়া বাজার সংলগ্ন বড়দিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অবৈধ টাকার জোরে সভাপতি হয়ে স্কুলের সামনে অবৈধভাবে দোকানপাট তৈরি করে লক্ষ লক্ষ টাকা বায়না নিয়ে ও ভাড়া তুলে খাচ্ছে।

এছাড়া ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে খান জাহাঙ্গীর আলম বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করেন।এই নির্বাচনে তিনি ব্যাপক নাশকতা চালান,এর ধারাবাহিকতায় খান জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দু’টি শটগান, একটি পিস্তল, দু’টি ম্যাগজিন ও ৯১ রাউন্ড গুলি ও ৪ লাখ টাকা উদ্ধার করেন। আইনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে অবৈধ টাকার জোরে একের পর এক অপকর্ম করেই চলেছে।আমরা গ্রামবাসী জাহাঙ্গীর আলমের তদন্তপূর্বক বিচার চাই।

খান জাহাঙ্গীর আলমের এই অপকর্মকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছে তার আত্মীয় কিছু কথিত সাংবাদিক।

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করতে গেলে জাহাঙ্গীর আলমের নির্দেশনায় তার পোশা সন্ত্রাসী বাহিনী মঙ্গলপুর গ্রামের মজিবর মোল্লা,রনো মোল্লা,শাওন মোল্লাসহ আরো অজ্ঞাত ২০-২৫ জন সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ,বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি সহ কোন প্রকার নিউজ করলে জীবননাশের হুমকি প্রদান করে এবং তাদেরকে সেই স্থান থেকে চলে আসতে বাধ্য করে ।

এ বিষয়ে দৈনিক গণতদন্ত পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মোঃনয়ন শেখ বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন যার জিডি নং-৪১৪।


প্রতারণা করে অর্ধশত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গাঢাকা দিয়ে রয়েছে সেই জাহাঙ্গীর আলম

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here