
মর্তুজা শোয়েব,বিশেষ প্রতিনিধি দুমকি পটুয়াখালী
একই সঙ্গে জন্ম মোসাঃ মারজান ইসলাম ও মোসাঃ মারজিয়া ইসলামের।বেড়ে ওঠাও একসঙ্গে। ইবতেদায়ী ও দাখিল একই প্রতিষ্ঠানে পড়েছে। ফলাফেলও সমান উজ্জ্বল দুজনেরই যমজ দুই বোন এবারের দাখিল (এসএসসি সমমান)পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে A+ পেয়েছে ।
মোসাঃ মারজান ইসলাম ও মোসাঃ মারজিয়া ইসলাম পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরাদিয়া গ্রামের কৃষক মোঃ রেজাউল করিম ওরফে মোঃ বাবুল মৃধার মেয়ে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট তারা। বড় বোন ও দুই ভাই বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে লেখাপড়া করে।তাদের খরচ জোগতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে দরিদ্র কৃষক রেজাউল করিমের।এখন দুই মেয়েকে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা। অভাব -অনটনের সংসারে তাদের কলেজে ভর্তিসহ পড়াশোনার খরচ জোগানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় দরিদ্র এই বাবা। মোসাঃ মারজান ইসলাম ও মোসাঃ মারজিয়া ইসলাম দুমকি’র সালামপুর আমিনিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় ২০২২ অংশ নেয়।যমজ সন্তানদের সাফল্যে খুশি মা মোসাঃ সাজেদা বেগম তিনি বলেন, আমার যমজ দুই সন্তান ভালো ফল করেছে, তাই মহান রবের নিকট লক্ষ কোটি শুকরিয়া আদায় করি।তবে কিভাবে কলেজে ভর্তি হবে,তা নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় রয়েছি।
মোসাঃ মারজান ইসলাম ও মোসাঃ মারজিয়া ইসলাম বলেন তারা দুই বোন প্রতিদিন হেঁটে বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে মাদ্রাসায় যাতায়াত করত।তাদের এ সাফল্যের পেছনে শিক্ষকদের অবদান রয়েছে অনেক । সবার দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালভবে পড়াশোনা চালিয়ে জেতে চায়।চিকিৎসক হয়ে সাধারণ গরীব মানুষের সেবা করার সপ্ন রয়েছে তাদের।
পৈত্রিক সূত্রে দুই একরের মত জমি রয়েছে যমজ দুই বোনের বাবা মোঃ রেজাুউল করিমের।চাষাবাদ করে যা পান, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। আর অপর সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ। বড় তিন ছেলেমেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশুনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, নিজে যতটুকু পারেন ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ায় সহায়তা করেন। এছাড়াও তারা প্রাইভেট পরিয়ে নিজেদের খরচ চালান।
মোঃ রেজাউল করিম আরো বলেন, মোসাঃ মারজান ইসলাম ও মোসাঃ মারজিয়া ইসলাম গ্রামে প্রাইভেট পড়িয়ে তাদের নিজেদের পড়াশোনার খরচ কিছুটা চালাতে পেরেছে। এখন কলেজে ভর্তি হবে। অনেক খরচ,তার পক্ষে এখন আর মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানো সম্ভব না।কারও সহযোগিতা পেলে তিনি অনেকট দুশ্চিন্তা মুক্ত হতেন।
সালামপুর আমিনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ওলিউর রহমান বলেন,মোসাঃ মারজান ইসলাম ও মোসাঃ মারজিয়া ইসলাম দুজনই মেধাবী। এত দিন আমরা ওদের লেখাপড়ায় যতটুকু পেরেছি সহায়তা করেছি।ওদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারলে ভবিষ্যতেও ভালো করবে আশা করি ওদের সপ্ন পূরন হবে।













