সৌদিতে নিহত সবুজের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

0
55

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আসির প্রদেশে যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় নিহত ওমরাহ যাত্রী সবুজ হোসাইনের লক্ষ্মীপুরের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

বুধবার সকালে জেলার রায়পুর উপজেলার চর মোহনা গ্রামে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে শোকে কাতর পরিবার ও তার স্বজনরা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দ্রুত তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান স্বজন ও এলাকাবাসী।

নিহতের চাচা বাচ্চুসহ স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ৩ বছর আগে সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে ঋণ করে হোটেল শ্রমিক হিসেবে বিদেশ (সৌদি) পাড়ি জমান স্থানীয় বাসিন্দা কৃষক হারুনের বড় ছেলে সবুজ হোসাইন। প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ করে তাকে বিদেশে পাঠানো হলেও এখনো ৩ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত রয়ে গেছে বলে জানান পরিবার। চার ভাই বোনের মধ্যে একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিল সবুজ। সর্বশেষ দুর্ঘটনার দিন বিকেলেও পরিবারের সাথে কথা হয় তার। মা-বাবার কাছে হজে যাচ্ছেন জানিয়ে দোয়া চান বলে জানান তারা। এরপর রাতে মৃত্যুর খবর শুনতে পান স্বজনরা। তখন থেকেই আহাজারি যেন থামছে না তাদের পরিবারে। দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে দিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান স্বজন ও এলাকাবাসী।

নিহতের বাবা মো. হারুন বলেন, ৩ বছর আগে হোটেল শ্রমিক ভিসায় সবুজ সৌদি আরব যান। যাওয়ার পরে কিছু টাকা পাঠালে ঋণের ১ লাখ টাকা পরিশোধ করি। এখনো প্রায় ৩ লাখ টাকা মানুষের দেনা রয়েছে। গত বছরও সবুজ ওমরাহ হজ পালন করেছে। এবারও ওমরাহ পালনের উদ্দেশে বিকেলে বের হয়েই ফোন দিয়েছে। ফোনে দোয়া করতে বলে আগামী বছর দেশে ফিরবে বলে জানিয়েছে সবুজ। কিন্তু এরই মাঝে ছেলের মৃত্যুর খবরে আমরা দিশেহারা হয়ে গেছি। একদিকে ছেলে বেঁচে নেই অন্যদিকে ঋণের বোঝা মাথায় রয়ে গেল। এখন ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে আসলে শেষ দেখা দেখতে পরিবারের সবাই অপেক্ষা করছে। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার মা পারুল বেগমও।

প্রসঙ্গত, সোমবার (২৭ মার্চ) সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আসির প্রদেশের আভা জেলায় বাস দুর্ঘটনায় প্রায় ২৪ জন নিহত এবং প্রায় ২৩ জন আহত হয়েছেন। বাসটিতে মোট ৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন ৩৫ জন। এখন পর্যন্ত ১৩ বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রী নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ১৭ বাংলাদেশিকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


সৌদিতে নিহত সবুজের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here