

মোঃ নকীব হোসেন তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি:
নদীতে ইলিশ শিকারের ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ২৫ অক্টোবর সোমবার মধ্যরাতে। ইতোমধ্যে জেলেরা জাল, নৌকা, ইঞ্জিনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত করছেন । নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই বুক ভরা আশা নিয়ে নদীতে নামবে ইলিশ শিকারে।উপজেলার স্লুইজঘাট, গুরিন্দা বাজার, চৌমহনীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে তারা পুরাতন জাল, নৌকা মেরামত করে ব্যস্ত সময়
পার করেছেন। ফলে নিষেধাজ্ঞার এসময়ে বিকল্প কোন কর্মসংস্থান না হওয়ায় মহাজনদের পাশাপাশি এনজিও থেকেও ঋণ নিয়ে সংসার পরিচালনা করেন তারা। জেলে আনছার বলেন, দুই মাস নদীতে মাছ ধরতে যাইনি। বেকার বসে ছিলাম। এসময় অনেক টাকা দেনা হয়ে গেছি। এখন মাছ ধরা শুরু হবে। নদীতে গিয়ে ইলিশ মাছ ধরে নিষেধাজ্ঞার সময়ে করা ধার-দেনা পরিশোধ করবো। স্লুইজঘাটের শেকান্তর ও হোসেন মাঝি বলেন, নদীতে যেতে না পারায় মহাজনদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সংসার চালনোর পাশাপাশি নৌকা জাল মেরামত করেছি। নিষেধাজ্ঞা শেষ এখন নদীতে গিয়ে মাছ ধরে এসব ধার দেনা পরিশোধ করতে হবে। উপজেলা মৎস্য অফিসার আমির হোসেন বলেন, এ বছর মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। আশা করি নিষেধাজ্ঞার এসময়ে মা ইলিশ নিবিঘেœ ডিম ছাড়তে পারছে। এ উপজেলায় ১৮ হাজার ৫১২ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৫শ জন জেলেকে সরকারি ভাবে ২০কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।এছাড়া ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞার ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত মৎস্য অফিস, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, কোষ্টগার্ড যৌথভাবে ২৪ টি মোবাইল কোর্ট ও ৪০ টি অভিযান পরিচালনা করে। এসময় ১ লক্ষ ৭ হাজার মিটার জাল ১২ টি মাছ ধরার ট্রলার জব্দ করা হয়। ৫১ জন জেলেকে আটক করে ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং বাকীদের কাছ থেকে ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেন ভ্রাম্যমান আদালত। তবে এর মধ্যে কিছু জেলে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও প্রতিবন্ধি হওয়ায় তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।













