
আব্দুস ছাত্তার,কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। ঈদ উপলক্ষে নতুন পোষাক পরে ঈদগাহে যাওয়া ও সকল ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে ঈদের জামায়াতে নামাজ আদায় করা। কোলাকুলি করা সকল বয়সের মুসল্লিদের শুভেচ্ছা জানানো, মিষ্টি খাওয়া ও ঈদের সালামী নেওয়া। ঈদের আনন্দে মেতে উঠতে নতুন পোষাক কেনায় বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী ও যুবকদের থাকে অনেক স্বপ্ন ও জল্পনা কল্পনা। তাই আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নতুন পোষক কিনতে পরিবার নিয়ে ঈদের বাজারে জমছে মানুষের ভিড়।
নারী -পুরুষ, তরুণ-তরুণী, শিশু – কিশোর সহ সর্বস্তরের মানুষ নেমে পড়েছে তাদের পছন্দের কেনাকাটা করতে। সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ থানা সড়ক হতে নাজিমগঞ্জ বাজার ও নলতা বাজার পর্যন্ত এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি ভিড় নজরে পড়ছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি ঈদের বাজার করছেন প্রত্যন্ত বিভিন্ন এলাকার মানুষ। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সহ সকল এলাকায় প্রতিদিন বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও ঈদের বাজারে ভিড় চোখে পড়ার মতো।
শুধু কালিগঞ্জের নাজিমগঞ্জ বা নলতা নয়, ভিড় জমছে মৌতলা বাজার, কৃষ্ণনগরের বালিয়াডাঙ্গা বাজার , রতনপুর বাজার, কুশুলিয়া বাজার, চম্পাফুল বাজার, তারালী বাজার সহ অনেক ছোট বড় সব ধরনের মার্কেটে। পছন্দের পণ্য কিনতে পেরে একদিকে যেমন খুশি ক্রেতারা। তেমনি বেচাকেনা ভালো হওয়ায় হাসি ফুটেছে বিক্রেতাদেরও। বড় বড় দোকানের পাশাপাশি ফুটপাতের দোকানগুলোতেও এবার বেচাকেনার ধুম পড়েছে। নাজিমগঞ্জ বাজারের বিগ বাজারের ম্যানেজার নাজমুল ইসলাম বলেন, এখনো পর্যন্ত বেচা বিক্রি সন্তোষজনক তবে ঈদের শেষ সপ্তাহে মুলত বেচা বিক্রি বেশি হয়ে থাকে।
ঈদের বাজারে ছেলেদের জিন্সপ্যান্ট, গ্যাবাডিন কাপড়ের স্ট্রিজ প্যান্ট, সটশার্ট, ফর্মাল শার্ট, গেঞ্জি, পাঞ্জাবি ও পাজামা বিক্রি হচ্ছে। মেয়েদের কর্টন, জর্জেট, সিল্ক থ্রিপিস ও ওয়েস্টার্ন পোশাক এবং দেশী ও বিদেশী বিভিন্ন প্রকারের শাড়ি বিক্রি হচ্ছে। বাচ্চাদের ফতুয়া, প্যান্ট, শার্ট, গেঞ্জি, ফ্রক ও নিমা বিক্রি হচ্ছে নাজিমগঞ্জ গাইন গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান গাইন বলেন, বাংলাদেশী পোশাকের পাশাপাশি পাকিস্থানী ও ভারতীয় পোশাক টুপিচ ও থ্রিপিচ বিক্রি হচ্ছে। তবে এবার ঈদে সারারা, অর্গেনজা, গারারা ও নায়রা থ্রিপিচের চাহিদা বেশি। এসব থ্রিপিচ সর্বনিম্ন ৫৫০ টাকা থেকে সর্বচ্চ্য ৪৫০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রয় প্রতিনিধি মেহেদী হাসান বলেন, ঢাকার বঙ্গবাজারে আগুন লাগায় মালিক পক্ষ থেকে বাকী নিতে পারছিনা যার কারনে ব্যবসায়িদের একটু কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মৌতলা বাজারে রনি গার্মেন্টসের সত্বাধিকারি মীর আবুল আলম স্বপন বলেন, সম্প্রতি ঢাকার বঙ্গবাজারে আগুন লাগায় বেড়েছে ক্রয় মুল্য, মানুষের চাহিদা ও বিক্রয় মূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ক্রেতা দোকানে দোকানে ঘুরে দেখছে। তবে ঈদের শেষ মূহুর্তে ভালো বিক্রি হবে ইনশাআল্লাহ। এদিকে বাজারের বিভিন্ন মার্কেটের ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানাযায় এবছর জিনিসপত্রের দাম একটু বেশি। ক্রেতা বংশীপুরে শাহিনুর রহমান বলেন, প্রতি বছর ঈদের দুই একদিন আগে মার্কেট করি এসময় ভিড় থাকে বেশি। তাই আগে থেকে কেনাকাটা শুরু করলাম ক্রেতা মানপুর গ্রামের মনিরা সুলতানা বলেন, মনে করেছিলাম মার্কেটে ভিড় কম থাকতে ঈদের কেনাকাটা করে নেব, কিন্তু মার্কেটে এসে খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রোজা থেকে অতিরিক্ত গরম আবার ভিড় ও অনেক বেশি। এছাড়া ভিড় দেখা গিয়েছে বিভিন্ন জুতার দোকান, মনোহরির দোকান ও টেইলার্স গুলোতে।













