
আববাস উদ্দীন,ঢাকা বিভাগীয় প্রতিনিধি
বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার, বাংলাদেশের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ আজ রবিবার ৯ ফেব্রুয়ারী সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর মগবাজার, ইনসাফ আল বারাকাহ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন- ইন্না ল্লিাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের একান্ত সচিব মো. রুহুল আমিন সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গত ৫ জানুয়ারি ইউনাইটেড হাসপাতালে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুর রউফের হার্টে অপারেশন করা হয়। কিন্তু হার্ট রেট কম থাকায় হার্টে পেসমেকার বসানো হয়েছিল। চিকিৎসারত অবস্থায় আজ সকালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তাঁর ১ম জানাযা আজ বাদ আসর মহাখালী বক্ষব্যাধী হসপিটালের বিপরীত পাশে গাউসুল আজম মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে।
বিচারপতি আব্দুর রউফ বর্তমানে দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয়ক কমিটির চেয়ারম্যান, জাতীয় শিশু সংগঠন ফুলকুড়ির সভাপতি এবং ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শরীয়াহ বিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফের বাবা। বিচারপতি আব্দুর রউফের মৃত্যুতে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে।
বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৪ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাইমারী ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বৃত্তি পেয়ে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে ১৯৫১ সালে কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিকুলেশন, আনন্দ মোহন কলেজ থেকে আই, এস, সি ও বি, এস, সি ডিগ্রী; সরকারি বৃত্তি নিয়ে ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বি,এড ও এম এ, ইন এডুকেশন ডিগ্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে এম,এ ও এল,এল,বি ডিগ্রী লাভ করেন।
আবদুর রউফ জানুয়ারি ১৯৬২ সালে তদানীন্তন ঢাকা হাইকোর্টে আইন-ব্যবসায় নিয়োজিত হন। ১৯৭০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২৯ জানুয়ারি ১৯৮২ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক নিযুক্ত হন। হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি পদে থাকাকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ তাকে ১৯৯০ সালের ২৫ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করেন, তিনি বিচারপতি সুলতান হোসেন খানের স্থলে স্থলাভিষিক্ত হন। ১৯৯৫ সালের ১৮ এপ্রিল তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনের পদ ত্যাগ করেন ও বিচারপতি এ কে এম সাদেক তার স্থলে স্থলাভিষিক্ত হন।পরে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক হিসেবে কাজ শুরু করেন ও জুন ১৯৯৫ সালে আপীল বিভাগের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা এবং গণতন্ত্রের বিকাশে তাঁর ছিল অপরিসীম অবদান। বহু ধর্ম ও মতের মানুষদেরকে নিয়ে ইন্টারফেইথ ময়দানেও তিনি যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। গুণীজন এই ব্যক্তি দুনিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ায় নিঃসন্দেহে একটি বিরাট শূণ্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন গুনীজনেরা।













