ইসরায়েলি হামলায় গাজায় আরও ৯১ জন নিহত

0
90

অনলাইন ডেস্ক

গাজায় বর্বরতা অব্যাহত রেখেছে দখলদার ইসরায়েল। ওই উপত্যকায় একদিনে আরও ৯১ জনকে হত্যা করেছে ইহুদিবাদী সেনারা। শনিবার এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত এই ৯১ জনের মধ্যে ৪৮ জনই গাজা সিটির বাসিন্দা।

যার মধ্যে ছয়জন ত্রাণ নেওয়ার সময় নিহত হন।

দখলদার ইসরায়েল মধ্য গাজার সারায়া এলাকায় বেসামরিক মানুষের ওপর বোমাবর্ষণ করেছে করেছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিদিন প্রায় ১০০ মানুষ নিহত হলেও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হুমকি দিয়েছেন, সব লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত গাজায় তারা যুদ্ধ থামাবেন না। এছাড়া তিনি গাজায় বর্বরতা বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছেন।

এদিকে, প্রকাশ্যে এসেছে গাজা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ২১ দফা প্রস্তাব।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার যুদ্ধ বন্ধে গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আট মুসলিম দেশের নেতারা। ওই সময় ট্রাম্প তাদের কাছে ২১-দফা প্রস্তাব পেশ করেন। বৈঠক শেষে একাধিক মুসলিম নেতা জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের ভালো আলোচনা হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে ২১ দফার কথা শোনা গেলেও এগুলো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল দফাগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করেছে।

১. গাজা হবে চরমপন্থা-মুক্ত, সন্ত্রাস-মুক্ত একটি অঞ্চল যা তার প্রতিবেশীদের জন্য কোনও হুমকি সৃষ্টি করবে না।

২. গাজার মানুষের কল্যাণের জন্য ওই উপত্যকা পুনর্গঠন করা হবে।

৩. উভয়পক্ষ এই ২১ দফায় সম্মত হলে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধ সমাপ্ত হবে।

৪. ইসরায়েল প্রকাশ্যে চুক্তিটি মানার ঘোষণা দিলে, ওই সময় থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব জীবিত ও মৃত জিম্মিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ইসরায়েলি বাহিনী সব অভিযান বন্ধ করে ধীরে ধীরে গাজা উপত্যকা থেকে সরে যাবে।

৫. জিম্মিদের ফিরিয়ে দেওয়ার পর ইসরায়েল যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকশ’ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে। সেই সাথে যুদ্ধ শুরু থেকে আটক এক হাজারের বেশি গাজাবাসী এবং কয়েকশ’ ফিলিস্তিনির মৃতদেহও হস্তান্তর করবে তারা।

৬. জিম্মিদের ফিরিয়ে দেওয়ার পর, হামাসের যে যোদ্ধারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবেন, তাদের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করা হবে। আর যেসব যোদ্ধা উপত্যকা ছাড়তে চাইবেন তাদের অন্যদেশে নিরাপদে যেতে দেওয়া হবে।

৭. এই চুক্তি হওয়ার পর গাজায় ত্রাণ সাহায্য বাড়ানো হবে। প্রতিদিন অন্তত ৬০০ ট্রাক ত্রাণ গাজায় ঢুকবে। এর পাশাপাশি জরুরি অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর সরঞ্জামও প্রবেশ করবে।

৮. জাতিসংঘ, রেড ক্রিসেন্ট এবং ইসরায়েল বা হামাসের সঙ্গে যুক্ত নয় এমন অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করা হবে। যেখানে কোনও পক্ষের হস্তক্ষেপ থাকবে না।

৯. গাজার শাসনভার ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের সমন্বয়ে গঠিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন ও অস্থায়ী সরকারের হাতে থাকবে। যারা গাজার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সেবা প্রদানের দায়িত্বে থাকবেন। এই কমিটিকে একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা তত্ত্বাবধান করবে। নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, আরব ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সমন্বয়ে।

এই সংস্থাটি মাহমুদ আব্বাসের ফিলিস্তিন অথরিটি (পিএ) সংস্কার কর্মসূচি শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাজার পুনর্গঠনে অর্থায়নের জন্য একটি কাঠামো তৈরি করবে।

১০. মধ্যপ্রাচ্যের আধুনিক শহর নির্মাণে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। এতে গাজায় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিদ্যমান পরিকল্পনাগুলো বিবেচনা করা হবে।

১১. অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গাজায় কম শুল্ক ও সহজ প্রবেশাধিকারের একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে।

১২. কাউকে গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না। তবে যারা চলে যেতে চাইবেন তাদের ফিরে আসার অনুমতি থাকবে। উপরন্তু, গাজাবাসীকে উপত্যকায় থাকতে উৎসাহিত করা হবে এবং সেখানে একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

১৩. গাজার শাসনে হামাসের কোনও ভূমিকাই থাকবে না। হামাসের তৈরি সুড়ঙ্গসহ যেকোনও ধরনের সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এছাড়া যেসব অবকাঠামো এখনও আছে সেগুলো ধ্বংস করতে হবে। গাজার নতুন নেতারা তাদের প্রতিবেশী দেশেগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবেন।

১৪. আঞ্চলিক অংশীদারদের মাধ্যমে একটি নিরাপত্তা গ্যারান্টি দেওয়া হবে। যাতে হামাস ও গাজার অন্যান্য দলগুলো তাদের বাধ্যবাধকতা মেনে চলে এবং গাজা ইসরায়েল বা তার নিজস্ব জনগণের জন্য হুমকি সৃষ্টি করা বন্ধ করে।

১৫. উপত্যকার নিরাপত্তা তদারকির জন্য যুক্তরাষ্ট্র, আরব দেশ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠন করা হবে। এ বাহিনীকে অবিলম্বে গাজায় মোতায়েন করা হবে।

নতুন আন্তর্জাতিক বাহিনীটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী সৃষ্টি ও তাদের প্রশিক্ষণ দেবে। যা দীর্ঘমেয়াদী অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।

১৬. ইসরায়েল গাজা দখল বা অধিগ্রহণ করবে না এবং নতুন নিরাপত্তা বাহিনী গাজায় স্থিতিশীলতা তৈরি করার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে গাজা থেকে চলে যাবে।

১৭. হামাস এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান বা এটি গ্রহণে বিলম্ব করলে— উপরে উল্লিখিত দফাগুলো হামাসের নিয়ন্ত্রণহীন এলাকাগুলোতে প্রয়োগ করা হবে।

১৮. ইসরায়েল কাতারে ভবিষ্যতে হামলা করবে না।

১৯. গাজার জনগোষ্ঠীকে কথিত চরমপন্থা থেকে দূরে সরানোর জন্য একটি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এর মধ্যে ইসরায়েল ও গাজার মানুষের জীবন পরিবর্তনের লক্ষ্যে আন্তঃধর্মীয় সংলাপও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

২০. গাজার পুনর্গঠন আলোর মুখ দেখলে, ফিলিস্তিনি অথরিটির সংস্কার পোগ্রাম শেষ হলে ফিলিস্তিনকে স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেওয়ার পথ সুগম করা হবে।

২১. শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের লক্ষ্যে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আলোচনার ব্যবস্থা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

আগামী সোমবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈঠক হবে। ওই সময় জানা যাবে, এ চুক্তিটি ইসরায়েল মানবে কি না।

এদিকে, নেতানিয়াহু জাতিসংঘের ভাষণে জানান, গাজায় তারা হামলা অব্যাহত রাখবেন। অপরদিকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন তারা হয়তো যুদ্ধবিরতিচুক্তির দ্বারপ্রান্তে আছেন। সূত্র: আল-জাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল


ইসরায়েলি হামলায় গাজায় আরও ৯১ জন নিহত

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here