চরভদ্রাসনে দখলমুক্ত খালের নিলামের মালামাল ফের দখলদারের হাতে

0
7

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার বাদুল্লা মাতুব্বরের ডাঙি গ্রামে শত বছরের পুরোনো একটি সরকারি খাল দখলমুক্ত করার পর নিলামে বিক্রি করা মালামাল আবার মূল দখলদারের কাছেই চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশাসনের নিলাম থেকে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মালামাল কিনে নেওয়া ব্যক্তি পরে তা খাল দখলের অভিযুক্ত সায়েদ মোল্লার হাতেই তুলে দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদুল্লা মাতুব্বরের ডাঙি গ্রামের শত বছরের পুরোনো সরকারি খালটির একটি অংশ দখল করে বালু ভরাট ও পাইলিংসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির চেষ্টা করেন স্থানীয় সায়েদ মোল্লা। বিষয়টি জানাজানি হলে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনে প্রমাণের সত্যতা পেয়ে ভরাট করা বালু সরিয়ে সরকারি খালটি উন্মুক্ত করার জন্য সায়েদ মোল্লাকে চার দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খালটি মুক্ত না করায় পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনরায় সেখানে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে খাল দখলে ব্যবহৃত বালু, পাইলিংয়ের বাঁশ, সিমেন্টের রিং পাইপসহ বিভিন্ন মালামাল স্পট নিলামে তোলা হয়। নিলামে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা দর হেঁকে দিপু খান নামে এক ব্যক্তি সব মালামাল কিনে নেন।

নিলামের পর অভিযোগ ওঠে, দিপু খান মূলত সায়েদ মোল্লার হয়েই নিলামে অংশ নিয়েছিলেন। এমনকি নিলামের ১০ হাজার টাকাও সায়েদ মোল্লা পরিশোধ করেছেন বলে এলাকায় কানাঘোষা চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিপু খান নিলামে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, “মানবিক দিক বিবেচনা করে কেনা মালামাল সায়েদ মোল্লাকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ থেকে কোনো অতিরিক্ত লাভ নেওয়া হয়নি।”

বিষয়টি নিয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ জানান, “সায়েদ মোল্লা নিজেও সরাসরি অথবা অন্য কারও মাধ্যমে নিলামে অংশ নিয়ে মাল কিনতে পারেন, এতে আইনি কোনো বাধা নেই। প্রশাসনিকভাবে আমাদের মূল লক্ষ্য খালটি উন্মুক্ত হলো কি না তা নিশ্চিত করা।”


চরভদ্রাসনে দখলমুক্ত খালের নিলামের মালামাল ফের দখলদারের হাতে

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here