চলন্ত ট্রেনের টিটিইকে গুলির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

0
92

পাবনা জেলা প্রতিনিধি:

চলন্ত ট্রেনে টিকিট চেকিং নিয়ে বাদানুবাদের পর ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষককে (টিটিই) গুলি করে মাথার খুলি উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। এ ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। এতে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) শিপন আলীকে আহবায়ক ও পাকশী রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আমিন-উল-ইসলাম ও সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা (এটিও) এ কে এম নুরুল আলমকে সদস্য করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রেলওয়ে বিভাগের একাধিক টিটিই ও গার্ডসহ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন থেকে চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়ে যায়। উল্লাপাড়া স্টেশনে পৌঁছার সময় ওই ট্রেনে কর্তব্যরত টিটিই আব্দুল আলীম বিশ্বাস মিঠু বিনা টিকিটের যাত্রীদের জরিমানাসহ টিকিট করিয়ে দিচ্ছিলেন। টিটিই এবং গার্ডের অভিযোগ, এ সময় রেলওয়ে পুলিশের একজন কনস্টেবল টিটিই ও গার্ডকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনারা আমাদের এদিকে টিকিট চেকিং করতে কেন এসেছেন?’ এ প্রশ্নে গার্ড ইকবাল মাহমুদ ওই পুলিশ সদস্যকে সংযত হয়ে কথা বলতে বলেন। এ নিয়ে গার্ড ও টিটিইর সঙ্গে বাদানুবাদের সময় সেখানে এগিয়ে আসেন ঈশ্বরদী জিআরপি পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক মো. রোবেল মিয়া। ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার একজন এএসআই ও দুই জন কনস্টেবল, টিটিই ও গার্ড- তারা ঈশ্বরদী-ঢাকা রুটে চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে স্ব-স্ব দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

ভুক্তভোগী টিটিই আব্দুল আলীম মিঠু বলেন, “বিনা টিকিটের যাত্রীর থেকে ‘ঞ’ বগিতে ১১ জন যাত্রীর কাছ থেকে ৩ হাজার ১শ’ টাকা ভাড়াসহ জরিমানা আদায় করা হয়। এ সময় গার্ড এসে উপস্থিত হলে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হলে গালিগালাজ করে। প্রতিবাদ করা হলে ট্রেনে দায়িত্বরত এএসআই রুবেল আমাকে গুলি করার হুমকি দেন এবং হ্যান্ডকাপ পরিয়ে গ্রেফতারের চেষ্টা করেন। পরে গালিগালাজ শুরু করলে আমিও পাল্টা গালি দেই। পরে ট্রেনের পরিবেশ যেন নষ্ট না হয়, তাই ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।”

ঈশ্বরদী থেকে বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে ২১ হাজার ৫শ’ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে বলে জানান ওই টিটিই। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রুবেল মিয়া গুলি করার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “ওই বগিতে আমার সঙ্গে থাকা কনস্টেবল ফারুকের সঙ্গে গার্ড ইকবাল মাহমুদের কথা হয়, আমি পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় ইকবাল কনস্টেবল ফারুককে বলেন ইনি কে? তখন আমি বলি ‘আমাদের গায়ে পোশাক দেখে চিনতে পারছেন না আমি কে?’ এ সময় পাশে থাকা টিটিই আব্দুল আলীম মিঠু বলে ওঠে ‘শালারা টাকা পায় না, এজন্য মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এ সময় আমি একটু উচ্চস্বরে বলে উঠি ‘এই শালা বললি কাকে? একদম হ্যান্ডকাপ পরিয়ে দেব।’ এ সময় ট্রেনের লোকজন বুঝিয়ে বললে বিষয়টা মিটমাট হয়ে যায়। এছাড়া আর কোনো ঘটনা ঘটেনি। গুলি করার কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

ট্রেন পরিচালক ইকবাল বলেন, ‘আমি ট্রেনের পরিবেশ শান্ত রাখতে আর কোনো কথা না বলে স্থান ত্যাগ করি। পরে বিষয়টি পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক, পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) রেলওয়ে জিআরপি থানার ইনচার্জকে বিষয়টি অবগত করে ডিউটি শেষ করি।’

ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোপাল কুমার জানান, ‘ট্রেনের মধ্য রেলওয়ে পুলিশের সঙ্গে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। ডিউটি শেষ করে আসলে বিস্তারিত জানা যাবে।’

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহীদুল ইসলাম জানান, ‘আমাদের টিটিই অত্যন্ত দায়িত্বশীল এবং অত্যন্ত কর্তব্যপরায়ণ। তিনি ওই ট্রেনের ৮ জন বিনাটিকিটের যাত্রীকে জরিমানা করতে গেলে ওই ট্রেনের দায়িত্বরত এএসআই তাকে গুলি করার হুমকি দিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। প্রকৃত ঘটনা জানতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


চলন্ত ট্রেনের টিটিইকে গুলির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here