
হানিফ পারভেজ,বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মাছ হচ্ছে বাঙালির প্রধান খাবার, যার জন্য বাঙালিদের বলা হয় মাছে-ভাতে বাঙালি।
কিন্তু যুগের পর যুগ ধরে বাঙালি যে সকল দেশীয় প্রজাতির মাছের সাথে পরিচিত সে সকল মাছ এখন বিলুপ্ত প্রায়।
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় গত কয়েক দশকে বেশ অনেক প্রজাতির পরিচিত দেশীয় মাছ বাজার থেকে ‘প্রায় নাই’ হয়ে গেছে।
দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ বিলুপ্তির কারণে স্থানীয় জেলেদের দুর্দিন যাচ্ছে। বাঘাইড়,বাউশ, পাপদা, আইড়, গুতুম, কাচকি, তারা বাইম, বড় বাইম, কাকিলা, দারকিনা, কৈ, রানী, বোয়ালি পাপদা, লালচান্দা, ছোট পাপদা, শিং,মাগুর,। বাছা, বুজুরি টেংরা, রিটা, কওয়াজঙ্গী, কেচকি, বোয়াল, চান্দা, কাংলা, গজার, গুড়োচিংড়ি, মাছ প্রায় বিপন্ন।
দেশীয় প্রজাতির এ সকল মাছ মানুষের দেহের পুষ্টি যোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক সময় বাজারে এ সকল মাছের সরবরাহ ছিল পর্যাপ্ত। কিন্তু কালের বিবর্তনে আজ তা বিলুপ্ত প্রায়।
কলকারখানার বর্জ্য, নদী-খাল ও জলাশয় ভরাট, জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি, নদী ও হাওরে নাব্যতা সংকট দেশীয় প্রজাতির মাছ কমে যাওয়ার বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশের কৃষিকাজে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ টন রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহৃত হয়, যা মাটি চুইয়ে জলাভূমিতে যায়। এর কারণেও মাছের উৎপাদন কমছে।
জলাশয়-ডোবা ভরাট, অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা, জমিতে কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারসহ মাছের অনূকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় অনেক মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
মাছের বিচরণ এলাকা নদী, হাওর বাওড় ও বিল দূষিত হয়ে যাচ্ছে। এতে রাজধানীর চারপাশের নদী বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, বালু, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ এবং চট্টগ্রামের কর্ণফুলী প্রায় মাছ শূন্য হতে চলেছে।
এ ছাড়া দেশে এ পর্যন্ত ৩০টি আগ্রাসী প্রজাতির বিদেশি মাছ ঢুকে পড়েছে, যা দেশি ছোট মাছগুলো খেয়ে সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে।
প্রাকৃতিক উৎসে জন্মানো কৈ, মাগুর, শিং, পাবদা, চাপিলা, টাকি, রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতল, রিটা, পাঙ্গাশ, বোয়াল, খৈলসার, বাইলা, বাইম, মেনি বা চেদরি মতো সুস্বাদু দেশি মাছগুলো এখন আর দেখা যায় না বললেই চলে।
মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন, অধিক মুনাফার আশায় হাইব্রিড মাছের চাষ করতে গিয়ে জলাশয়গুলো থেকে দেশি মাছের বিলুপ্তি ঘটানো হয়েছে। দেশি মাছ খাদ্যগুণে অনেক বেশি সমৃদ্ধ। চিকিৎসকরা শিশু ও বৃদ্ধসহ সব মানুষের পুষ্টির জন্য সাধারণত এসব দেশি মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু বাজারে সরবরাহ না থাকায় এসব মাছের দাম খুবই বেশি। তাই ক্রেতার চাহিদা মেটাতে আবার পর্যাপ্ত পরিমাণ দেশি মাছ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে হবে। তার জন্য দরকার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা।













