
মো: রবিউল ইসলাম,বিশেষ প্রতিনিধি লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংস্কার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হয়। হাসপাতাল চত্ত্বরের বিভিন্ন সড়ক ও পয়নিস্কাশনের জন্য ড্রেন সংস্কার করতে একটি প্রকল্প গ্রহন করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল দফতর। আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ সংস্কার কাজের বিপরীতে প্রায় ১২ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। কাজটি পান নুরজাহান স্টোর নামে কুড়িগ্রামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
এ সংস্কার কাজ শুরুর প্রথম দিনেই নিম্নমানের ইট বালু ব্যবহার করায় কাজ বন্ধ করে দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। তার দেয়া তথ্যমতে পরদিন ৩০ এপ্রিল এ সংস্কার কাজের তদারকি কর্মকর্তা এসে এসব নিম্নমানের সামগ্রী সড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। তদারকি কর্মকর্তা চলে যাওয়ার পরেই ওই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে পুনরায় সংস্কার কাজ শুরু করলে স্থানীয়রা কাজের স্টিমেট দাবি করেন। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার স্টিমেট দেখাতে ব্যর্থ হলে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দেন।
এ ঘটনায় ওই দিন স্থানীয়দের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তাৎক্ষনিক ভাবে থানায় ফোন করে পুলিশী সহায়তা দাবি করেন ঠিকাদার। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়রা তাদের দাবি তুলে ধরে নিম্নমানের সামগ্রী সড়াতে বলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিষেধের পরেও নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি বলেন, নিম্নমানের ইট বালু আর রড দিয়ে কাজ শুরু করে। দুই দফায় প্রকৌশলী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব নিম্নমানের সামগ্রী সড়াতে বললেও ঠিকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণপাত না করেই ক্ষমতার দাফটে কাজ চালিয়ে যায়। কাজের স্টিমেট চাইলেও দেখাতে পারেনি। উল্টো ঠিকাদার চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশ পাঠিয়ে স্থানীয়দের সড়িয়ে দিয়ে নিম্নমানের কাজ করছে। কাজের প্রতিবাদ করলে চাঁদাবাজির মামলায় হয়রানীর হুমকী দিচ্ছে ঠিকাদার। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নুরজাহান স্টোরের ম্যানেজার হাবিব মিয়া বলেন, প্রথম দিকে কিছু ইট বালু নিম্নমানের ছিল তবে তা দিয়ে করা কাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ভেঙ্গে নতুন ভাবে করা হচ্ছে। নিম্নমানের ওই সব সামগ্রী সড়ানো হবে। স্থানীয়রা চাঁদা দাবি করেনি তবে কয়েকজন চিল্লাচিল্লী করায় থানায় ফোন করা হয়েছিল।
আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খালেদ হোসেন বলেন, নিম্নমানের কারনে প্রথম দিনই কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল দফতরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এরপরও যদি নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যায় তবে তা পরবর্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।












