সাকিবের ক্যাপ্টেন্সিতে এশিয়াকাপে ১ম জয় পেলো বাংলাদেশ

0
238

মোঃ মনিরুল ইসলাম খান,নিজস্ব প্রতিনিধি ময়মনসিংহ

গতকাল পাকিস্তানের লাহোরের গাদ্ধাপি স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের সাথে ৮৯ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। মিরাজ-শান্তর জোড়া সেঞ্চুরি ও শেষের দিকে সাকিব-মুশির ক্যামিওতে প্রথম ইনিংসে ৩৩৪ রানের ফাইটিং স্কোর পায় বাংলাদেশ। এদিন ৩ পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে সাকিবের দল। জুনিয়র তামিম, শেখ মেহেদী, মোস্তাফিজের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পান আফিফ, শামীম, হাসান মাহমুদ। এদিন ৭ নাম্বারে খেলা মিরাজকে দিয়ে অপেনিং করায় সাকিব। সাকিবের সিধান্তকে সম্মান জানিয়ে অসাধারণ সেঞ্চুরি উপহার দেন মেহেদী মিরাজ। এছাড়া শান্তর ৩ নাম্বার পজিশন পরিবর্তন করে ৪ নাম্বারে নামায় অধিনায়ক। শান্তও ৯৯ স্টাইকরেটে সেঞ্চুরির দেখা পান। পাকিস্তানের ব্যাটিং উইকেটে বোলিং পরিবর্তন, ফিল্ডিং পরিবর্তনের মাধ্যমে টেকনিকেল অধিনায়কত্বের পরিচয় দেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

ঘরের মাঠে সর্বশেষ দুইটি সিরিজ হারা দলটার দায়িত্ব নিয়ে হুট করে এশিয়াকাপে ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব নিলেন। যেই আফগানিস্তানের সাথে দেশের মাটিতে সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। সেই আফগানিস্তানকে ব্যাটিং পিচে পাকিস্থানের মাটিতে ৮৯ রানে হারানো, আসলেই প্রশংসা করার মতো কাজ। যেই সাকিব ৩,৪ এ ব্যাট করে, সেই সাকিবই আসলেন ৬ নাম্বারে ব্যাট করতে। ১৭৮ স্টাইকরেটে ৩২ রান করে অপরাজিত ছিলে মিঃ অলরাউন্ডার। ৬ নাম্বারে খেলা মুশফিককে নামায় ৫ নাম্বারে, মুশিও ১৬৭ স্টাইকরেটে ব্যাট করে ২৫ রান করে রান আউট হয়।

সাকিব আল হাসানের অধিনায়কত্বে টস জিতে, বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাটিং করার সিধান্ত নেয়। এইদিন ৭ নাম্বারে খেলা মিরাজকে অপেনিং করায়, অধিনায়ক সাকিব। অপেনিং জুটিতে ৯.৫ ওভারে ৬০ রান আসে বাংলাদেশের স্কোর বোর্ডে। পাওয়ার প্লের শেষ বলে মুজিবের বলে বোল্ড হয়ে সাজ ঘরে ফিরেন নাঈম। ব্যাটিং প্রমোশন পেয়ে ওয়ান ডাউনে নেমে এদিন সুবিধা করতে পারেননি তরুন ক্রিকেটার তাওহীদ হৃদয়। দলীয় ৬৩ রানের মাথায় কোনো রান না করেই, গুলবাদিনের বলে কাটা পড়েন এই ক্রিকেটার। ৪ নাম্বারে ব্যাট করেন, আগের ম্যাচে ৮৯ রান করা নাজমুল হোসেন শান্ত। মিরাজ শান্তর ১৯৪ রানের উইকেট জুটিতে বাংলাদেশ ভালো একটা স্কোরের আশ্বাস পায়। ৪৩ তম ওভারের প্রথম বলে ছয় মেরে, বাম হাতের ইঞ্জুরির কারণে ক্রিজ ছাড়েন মেহেদী মিরাজ। ক্রিজ ছাড়ার আগে অসাধারণ একটি সেঞ্চুরির মাধ্যমে, ১১৯ বলে ১১২ রান করেন মিরাজ। মিরাজের ইনিংসটিতে ছিলো দৃষ্টি নন্দন ৭ টি চার ও ৩ টি ছয়ের মার। তারপর মাঠে নামে মিঃ ডিপেন্ডেবল খ্যাত মুশফিকুর রহিম। ৪৫ তম ওভারের ৩য় বলে রান আউটে কাটা পড়েন শান্ত। আউট হওয়ার আগে দৃষ্টি নন্দন ৯ চার ও ২ ছয়ের মাধ্যমে অসাধারণ সেঞ্চুরিতে ১০৫ বলে ১০৪ রান করেন শান্ত। মাত্র ১৫ বলে ২৫ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে ৪৭ তম ওভারের তৃতীয় বলে আউট হন মুশফিক রহিম। নিজের ২ নাম্বার পজিশন ছেড়ে এইদিন ৬ নাম্বারে ব্যাট করেন, দলের ক্যাপ্টেন সাকিব আল হাসান। ৬ নাম্বারে নেমে ৪ চার ও ১ ছয়ে মাত্র ১৮ বলে ৩২ রান করেন, অপরাজিত ছিলেন সাকিব আল হাসান। তার স্টাইকরেট ছিলো ১৭৮। শামীম পাটোয়ারী ১ ছয়ের কল্যাণে ৬ বলে ১১ রান করে রান আউট হন। ৩ বলে ৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন আফিফ হোসেন। আফগানিস্তানের হয়ে গুলবাদিন ও মুজিব একটি করে উইকেট নেন।

বাংলাদেশের দেওয়া ৩৩৫ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ২য় ওভারেই গুরবাজকে হারান আফগানিস্তান। ৪৪.৩ ওভারে ২৪৫ রান করে অলআউট হয় আফগানিস্তান। আফগানিস্তানের হয়ে জাদরান ৭৫ রান, হাসমতুল্লাহ শাহিদি ৫১ ও রহমত শাহ ৩৩ রান করেন। শেষদিকে রাশিদ খানের ঝড়ো ব্যাটিং আফগানিস্তানকে আশা দেখালেও, ১৫ বলে ২৪ রান করে তাসকিনের বলে আউট হন রশিদ। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন তাসকিন ও ৩ উইকেট নেন শরিফুল।


সাকিবের ক্যাপ্টেন্সিতে এশিয়াকাপে ১ম জয় পেলো বাংলাদেশ

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here