
প্রসেনজিত বড়ুয়া,উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
উখিয়া উপজেলার আওতাধীন বহুপুরোনো উখিয়া কলেজ এবং এই কলেজ থেকেই দেশের অনেক সুনামধন্য স্টুডেন্ট উঠে এসেছে তবে বর্তমানে উখিয়া কলেজের পরিস্থিতি ভালো নেই মোটেও। উখিয়া কলেজে বেড়ে গেছে অনৈতিক কর্মকান্ড, কলেজের ক্লাস রুম, কলেজের উঠানে সহ কলেজের বিভিন্ন জায়গায় হাতেগোনা কয়েকজন ছেলে – মেয়েরা একসাথে করে বেড়ায় রমরমা টিকটক আর এই যেন টিকটক সেলিব্রিটিদের ক্যাম্পাস। হাতেগোনা কয়েকজন ছাত্র – ছাত্রীর কারণে বদনাম হচ্ছে গোটা কলেজের। গতকাল কিছু ছাত্র-ছাত্রীদের টিকটক ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আর এই শিক্ষার্থীরা উখিয়া কলেজের ক্লাস রুম থেকে শুরু করে কলেজের বিভিন্ন জায়গায় করা টিকটক গুলো বেশ সাড়া পেলে দিয়েছে উখিয়াতে আর এতে নিন্দার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মাধ্যমে।
উখিয়া কলেজের অধ্যক্ষ অজিত কুমার দাস বিভিন্ন মাধ্যমে বলেছেন যেহেতু এই ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজের নিয়ম ভঙ্গ করেছে এবং কলেজের সুনাম নষ্ট করেছে সেহেতু তারা অবশ্যই শাস্তির আওতায় আসবে এবং অতিদ্রুত সবার সাথে আলোচনা করে তাদের বিরদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই বিষয়ে উখিয়া কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুল আমিন টিপুর কাছে জানতে চাইলে টিপু বলেন “উখিয়া কলেজের হাজারো শিক্ষার্থীদের সম্মানে আঘাত আনার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে যেন কলেজ কতৃপক্ষ কলেজের প্রশাসনিক সর্ব্বোচ্চ শাস্তি ব্যবস্থা গ্রহণ করে”। সাইদুল আমিন টিপু উখিয়া কলেজের একজন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে টিকটক ভিডিও গুলো দেখে তাদের সনাক্ত করে অধ্যক্ষ মহোদয়ের নিকট জমা দিবেন নিজ উদ্যোগে। এমনটাই জানিয়েছেন উখিয়া কলেজের এই ছাত্রলীগের সভাপতি।
উখিয়া কলেজের আরেক তরুণ ছাত্রলীগ নেতা এবং আগামীর উখিয়া কলেজের সভাপতি প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শামিম জানিয়েছেন “একজন ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে আমি আগেও এইগুলোর বিরুদ্ধে ছিলাম এখনো এর বিরুদ্ধেই আছি, আমার একটাই প্রশ্ন থাকবে কলেজ প্রশাসনের উপর যাতে এইরকম কাজ ভবিষ্যতে যাতে আর না হয় সেই পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক এবং পরবর্তীতে যাতে এইরকম ঘটনা আর না হয় এবং কলেজের মানসম্মান যাতে ক্ষুন্ন না হয় সেইটা জোরালো ভাবে প্রতিরোধ করার জন্য আমরা একটা ঠিম গঠন করবো। এমনটাই বলেছেন উখিয়া কলেজের এই ছাত্রলীগ নেতা।
টিকটক করে ভাইরাল হওয়া একজনের কাছে জানতে চাইলে তিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক করে বলেন “যেহেতু আমরা দোষ করেছি সেহেতু আমি এই দোষ স্বীকার করে নিয়েছি এবং আমি কলেজের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ক্ষমা প্রার্থনা করতেছি তবে যারা কিনা প্রথমে এই ভিডিও গুলো ভাইরাল করেছে তারা তো আমাদের পরিচিত বড়জন আর তারা চাইলে পারসোনাল ভাবে আমাদের সাবধান করতে পারতো বা ভিডিও গুলো ডিলিট করার জন্য বলতে পারতো কিন্তু তা না করে ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়াটা ভালো হয়নি। তিনি আরো বলেন এখন তো প্রায় শেষ আমরা আর এখন যদি আমরা সুইসাইড করি তাহলে এর দায় কে নিবে” এমনটাই জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই টিকটক করে ভাইরাল হওয়া শিক্ষার্থী।
এদিকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উখিয়া কলেজ প্রশাসন।













