পল্টুন সরিয়ে নেওয়ায় বড়মাছুয়া রকেট ঘাটে নৌযুগের সমাপ্তি

0
12

পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি

বলেশ্বর নদীর তীরে মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট থেকে পন্টুন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে পন্টুনটি বরিশালের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ঘাটের শেষ দৃশ্যমান স্মৃতিচিহ্নটিও সরে গেল। একসময় স্টিমারের হুইসেল, যাত্রীদের ভিড় ও পণ্য ওঠানামায় সরগরম থাকা এ ঘাট এখন নিস্তব্ধ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট নির্মাণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে যাত্রীদের নিরাপদে ওঠানামার সুবিধার্থে ঘাটে পন্টুন ও বেইলি সেতু স্থাপন করা হয়।

একসময় বড়মাছুয়া ছিল দক্ষিণাঞ্চলের নৌযোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এ ঘাট দিয়ে নৌপথে যাতায়াত করতেন। ঢাকা, বরিশাল ও খুলনাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের পণ্যও এ ঘাট দিয়ে পরিবহন করা হতো।

স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্টিমার চলাচলের সময় ঘাট এলাকায় প্রতিদিনই ছিল ব্যস্ততা। নির্দিষ্ট সময়ে স্টিমারের হুইসেল শুনলেই যাত্রী ও স্বজনদের ছোটাছুটি শুরু হতো। কেউ গন্তব্যে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতেন, কেউ আসতেন স্বজনকে বিদায় জানাতে। স্টিমার ছেড়ে যাওয়ার পর নদীর তীরে আবার নেমে আসত অপেক্ষাকৃত নীরবতা।

তবে সময়ের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্টিমার সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড়মাছুয়া ঘাটের গুরুত্ব কমতে থাকে। নৌপথে যাত্রী পরিবহন বন্ধ হওয়ার পর পন্টুনটি দীর্ঘদিন ঘাটে পড়ে ছিল। সেটিই হয়ে উঠেছিল হারিয়ে যাওয়া নৌযাতায়াতের একটি স্মারক।

বুধবার সেটিও সরিয়ে নেওয়ায় ঘাটের পুরোনো চেহারার আর কিছুই অবশিষ্ট থাকল না। বলেশ্বরের তীরে এখন রয়েছে ঘাটের স্থান ও সেই সময়ের স্মৃতি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বিশ্বজিৎ মজুমদার বলেন, বড়মাছুয়া ঘাট শুধু একটি নৌযান ওঠানামার স্থান ছিল না, এ অঞ্চলের মানুষের জীবনের সঙ্গে এর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। কর্মসংস্থান, ব্যবসা, চিকিৎসা কিংবা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষ এ ঘাট ব্যবহার করেছেন।

প্রবীণ কৃষক অমল রায় বলেন, নৌযুগের অবসান হলেও বড়মাছুয়া ঘাটের সেই ব্যস্ত সময়ের স্মৃতি স্থানীয় মানুষের কাছে অমলিন হয়ে থাকবে। সময়ের স্রোতে পন্টুনটি সরিয়ে নেওয়া হলেও বলেশ্বরের তীরে স্টিমারের হুইসেলে মুখর সেই দিনগুলোর গল্প থেকে যাবে মানুষের স্মৃতিতে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আতাউর রাব্বি বলেন, দেশের একমাত্র প্যাডের সমৃদ্ধ নৌযানটি আর্থির লোকসানের কারনে সরকার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই থেকে ঘাটটি অব্যবহৃত পড়ে ছিল। বুধবার নৌকর্তৃপক্ষ রকেট ঘাটটি বরিশালে স্থানান্তরিত করে নেয়।


পল্টুন সরিয়ে নেওয়ায় বড়মাছুয়া রকেট ঘাটে নৌযুগের সমাপ্তি

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here