গোয়াইনঘাটে মেধাবী ছাত্রী শামীমা’র কৃতিত্বের সাথে অনার্স সম্পন্ন

0
243

মোঃ দেলোয়ার হোসাইন,গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:

প্রকৃতির রাজ্য সিলেট। আর সেই রাজ্যের অন্যতম সেরা অলংকার অহংকার ঐতিহ্য যাই বলি না কেন শাহ্‌জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম তার প্রথম সারিতে থাকবে।

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি। ভোরের রক্তিম সূর্যের আলোয় আলোকিত স্বপ্নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শাবিপ্রবি। এখানে দেশের নানান শহর, বন্দর, গ্রাম থেকে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি নিয়ে বড় হওয়া মৌমাছিগুলো আসে নিজেদের আরও বৈচিত্র্যময়, ভিন্ন সংস্কৃতির ভিন্ন স্বাদ আহরণ করে নিজেকে আরও সুসজ্জিত করে হরেকরকম মানুষের সঙ্গে মিশে হরেক রকম ভাবনায় নিজেকে মেলে ধরে। প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে জ্ঞান-গরিমা অর্জন করে নিজের অস্তিত্বের জানান দেয়।

ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালাম আজাদ বলেছিলেন ‘মানুষ যা ঘুমিয়ে দেখে তা স্বপ্ন নয় বরং স্বপ্ন হচ্ছে যা আপনাকে ঘুমাতে দেয় না। এমনি এক নির্ঘুম স্বপ্নের অধিকারী গোয়াইনঘাটের কৃতি-ছাত্রী শামীমা।

শত প্রতিকূলতার মাঝেও শুধুমাত্র স্বপ্ন পূরনের তাড়না ও লেখাপড়ার করার প্রখর ইচ্ছাশক্তিই তাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে। বলছি শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী শামিমা বেগমের কথা। তিনি বিশ্ববিদ্যালের ২৭ তম ব্যাচে পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগে (অনার্স) পরীক্ষায় ৪র্থ বর্ষে ৩.৬০ পেয়ে প্রথম স্থান এবং ৮ সেমিস্টার মিলে (৩.৪৪/৪) পেয়ে ৩য় স্থান অর্জন করে ৪ বছরে অনার্স সম্পূর্ণ করেছেন। চার বছরে কোর্স সম্পূর্ণ করায় সমাজবিজ্ঞান অনুষদ থেকে তাকে ডিন এওয়ার্ডের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

যে কোন কঠিন প্রতিকূলতা মেধাবীকে দমিয়ে রাখতে পারে না তার অনন্য দৃষ্টান্ত হচ্ছে শামিমা। তাঁর বাবা মরহুম আজির উদ্দিন সালিশি ব্যক্তিত্ব ছিলেন । আর মা একজন গৃহিনী। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা শামিমা।

সে গোরাগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ন হয়ে গোরাগ্রাম উঁচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি ও ২০১৬ সালে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পূর্ণ করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় লেখাপড়া করার সুযোগ পেয়ে সম্পূর্ণ সুযোগটা কাজে লাগিয়েছেন। একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে দেশের মানুষের সামনে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় উপস্থাপনের প্রত্যাশায় মেধাবী শিক্ষার্থী শামিমা বেগম।

বড় ভাই সৈয়দ মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, শামীমা ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিল, চার বছর বয়সে সে প্রাথমিক বিদ্যালয় ভর্তি হয়। অত্যন্ত কৃতিত্ব ও সুনামের সাথে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে মা, ভাই ও বোনদের আদরে বড় হওয়া ছোট বোন শামিমা আজ সাফল্যের ঠিকানায় দাড়িয়ে আছে। তিনি জানান ২০০৫ সালে বাবা ইন্তেকাল করেন। তিনি বেঁচে থাকলে আজ কত খুশি হতেন। শামীমার এই কৃতিত্ব অর্জনে ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনায় তিনি উপজেলা বাসী সকলের দোয়া প্রার্থী।


গোয়াইনঘাটে মেধাবী ছাত্রী শামীমা’র কৃতিত্বের সাথে অনার্স সম্পন্ন

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here