
লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি
ভোলার লালমোহনে একদিন আগে প্রতিবেশীর সঙ্গে জমি নিয়ে মারামারি। পরদিন রাতে বুকের ব্যথা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে মৃত্যু বরণ করেন আব্দুল আলী নামে এক বৃদ্ধ। মারামারির সময় প্রতিবেশী ইলিয়াছ বুকে আঘাত করেন এমন গুঞ্জন থাকলেও মৃত্যুর পর ওই বৃদ্ধের স্ত্রী ও ছেলেরা কোনো অভিযোগ না করে মরদেহ দাফনও করেন। ভোলার লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের হরিগঞ্জ, এলাকার হিম্মত আলী বাড়ির বৃদ্ধ আব্দুল আলী, গত ১৭ জুলাই (বুধবার) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তবে এ ঘটনার ৯ দিন পর শুক্রবার বৃদ্ধ আব্দুল আলীর স্ত্রী ছায়েদা খাতুন, ছেলে ফারুক, হারুন ও শাহাবুদ্দিন জানান ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, মৃত্যুর আগের দিন প্রতিবেশী ইলিয়াছসহ কয়েকজন মিলে বাড়ির পাশের জমিতে আব্দুল আলীর বুকে আঘাত করেন। ওই সময় বাবার ওপর হামলার খবর শুনে মেঝো ছেলে হারুন ঘটনাস্থলে যান। সেখানে যাওয়ার পর তাকে দুইজন আটকে রেখে ইলিয়াছ তার বাবার বুকে ছুড়ির বাট দিয়ে আঘাত করেন। এর একদিন পর রাতে বৃদ্ধ আব্দুল আলীর বুকে প্রচন্ড ব্যথা শুরু হয়। পরে তাকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ওই রাতেই এক ঘন্টা পর তার মৃত্যু হয়। বৃদ্ধ আব্দুল আলীর স্ত্রী ছায়েদা খাতুন জানান, ময়নাতদন্ত করলে আমার স্বামীর দেহ কাঁটাছেঁড়া করা হবে; যার জন্য ছেলেদের থানায় কোনো অভিযোগ করতে দেইনি। এছাড়া ইলিয়াছ এসে আমার পায়ে ধরে অনুরোধ করেছিল যেই জমি নিয়ে বিরোধ সেই জমি আমাদের দিয়ে দেবে। এসব কারণে মৃত্যুর পর আর থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
ওই বৃদ্ধের বড় ছেলে ফারুক বলেন, ঘটনার সময় আমি চট্টগ্রাম ছিলাম। যার কারণে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। তবে এখন পরিবারের সকলের সিদ্ধান্তে মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ ঘটনায় যদি থানায় মামলা না নেয় তাহলে আমরা আদালতে মামলা দায়ের করবো।
বৃদ্ধকে হত্যার বিষয়ে ইলিয়াছ জানান, আব্দুল আলী আমার চাচা হয়। চাচাকে আমি কোনো আঘাতই করিনি। আমি জমিতে গরুর খামার করতে গেলে চাচা আব্দুল আলী বাধা দেন। থানা থেকে পুলিশও নেন। পরে জমি মাপার তারিখ হয়। ঘটনা কেবল এতটুকুই।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি এসএম মাহবুব উল আলম বলেন, ওই বৃদ্ধের মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। এখনো তারা থানায় আসলে আমরা তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো।













