
রাসেল,তুরাগ থানা প্রতিনিধি
চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে গাজীপুরের টঙ্গীতে ডেকে এনে আকাশ সরদার (২১) নামে এক যুবককে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই বন্ধুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বন্ধু মাজহারুল ইসলাম মিঠুকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের একটি পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে আকাশের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আকাশ সরদার ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার চাঁদপুর গ্রামের মো. করিম সরদারের ছেলে। গ্রেপ্তারকৃত মিঠু নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানায়, তারা দুজনই পূর্বে কম্বোডিয়া প্রবাসী ছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকার অপু মিয়ার মাধ্যমে আকাশ ও মিঠু কম্বোডিয়ায় যান। তিন মাস আগে তারা দেশে ফেরার পর আকাশ বেকার হয়ে পড়েন। গত ২৭ জুলাই তাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সোনারগাঁয়ে ডেকে নেন মিঠু এবং সেখান থেকে অপহরণ করে টঙ্গীতে নিয়ে আসেন।
একই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে আকাশের স্ত্রী জেরিনের হোয়াটসঅ্যাপে সুমন নামে এক ব্যক্তি কল দিয়ে আকাশকে আটকে রাখার কথা জানান। এরপর থেকেই আকাশের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের স্বজনেরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান না পেয়ে নিহতের বাবা মো. করিম সরদার বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় মাজহারুল ইসলাম মিঠু, মো. অপু মিয়া ও মো. সুমন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তার চাহিদার ভিত্তিতে র্যাব-১-এর একটি দল গত ২৩ আগস্ট টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিঠুকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৪ আগস্ট (সোমবার) সকালে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের ২১ নম্বর টয়লেটের পাশের একটি পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে আকাশের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
টঙ্গী পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইয়ানুর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।













